Friday, July 10, 2026
translate
SHONGBAD 360
ব্রেকিং সর্বশেষ আপডেট: নির্বাচন কমিশন নতুন সময়সূচি ঘোষণা • ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে • বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের ম্যাচ আজ
National

ইসলামী ব্যাংকের ঋণের অর্থ নির্বাচনী তহবিলে গেছে প্রমাণ করতে পারলে আমি তাকে মেডেল দেবো - ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জামায়াত আমিরের

📅 June 9, 2026 | 9:37 PM 👤 admin 👁 19 views
ইসলামী ব্যাংকের ঋণের অর্থ নির্বাচনী তহবিলে গেছে প্রমাণ করতে পারলে আমি তাকে মেডেল দেবো - ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জামায়াত আমিরের
ইসলামী ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী তহবিল গঠন করা হয়েছে—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, যদি প্রমাণ করা যায় যে ইসলামী ব্যাংকের ঋণের অর্থ জামায়াতের নির্বাচনী তহবিলে গেছে, তাহলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পুরস্কৃত করবেন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ব্যাংকটির ঋণ ও আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বক্তব্য দেন।
শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর বক্তব্যের ইঙ্গিত জামায়াতের দিকে ছিল। তিনি বলেন, কোনো দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি স্পষ্টভাবে বলা উচিত। আড়াল-আবডাল না করে সরাসরি অভিযোগ তোলার আহ্বান জানান তিনি।
ইসলামী ব্যাংক থেকে ৭০০ কোটি টাকার ঋণ নেওয়া এবং তা কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী তহবিলে ব্যবহারের অভিযোগের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, যদি এই অভিযোগ জামায়াতকে উদ্দেশ্য করেই করা হয়ে থাকে, তাহলে তিনি তা সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করছেন। তাঁর দাবি, এমন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা গেলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে সম্মাননা দেবেন।
ব্যাংকটির রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম (আরডিএস) নিয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। শফিকুর রহমানের ভাষ্য, আরডিএস কোনো রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রকল্প নয়। তিনি বলেন, এ প্রকল্পের অর্থ যদি জামায়াত বা দলের কোনো ফান্ডে গিয়ে থাকে, তবে তা খুঁজে বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়ে করা মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন জামায়াত প্রধান। তাঁর মতে, ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনের পেছনের ঘটনা দেশের মানুষ ইতোমধ্যেই জানে। তাই বিষয়টি পরে তদন্তের কথা বলা অপ্রাসঙ্গিক।
এস আলম গ্রুপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ব্যাংকটির বিপুল অঙ্কের অর্থ ঋণ হিসেবে নেওয়া হয়েছে এবং সেই অর্থের মাধ্যমেই ব্যাংকের বড় অংশের মালিকানা অর্জন করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এসব অর্থ ব্যাংকিং খাত থেকে অনিয়মের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শেয়ারহোল্ডারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে শেয়ার হস্তান্তর করানো হয়েছিল। তাঁর মতে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত মালিকদের কাছে শেয়ার ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনো একক রাজনৈতিক দলের সম্পদ নয়; এটি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ, ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাংক। তাঁর আশঙ্কা, ব্যাংকটি আরও দুর্বল হয়ে পড়লে দেশের অর্থনীতির ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
জামায়াত আমিরের প্রস্তাব, যাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক শেয়ার নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাছে সম্মানজনকভাবে সেগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হোক। এরপর আইন ও বিধি মেনে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হলে জামায়াত তার প্রতি সমর্থন জানাবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের কয়েকটি ব্যাংকে আমানতকারীরা ইতোমধ্যে অর্থ উত্তোলনে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। একই ধরনের পরিস্থিতি যদি ইসলামী ব্যাংকের মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে তৈরি হয়, তাহলে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে ইসলামী ব্যাংকের ক্ষতি হয়েছে এবং এস আলমকে সেই প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা এস আলমের পুনরায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
এ সময় ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াত আমির। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ওই ব্যক্তি এস আলমের নানা কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেছিলেন।

শেয়ার করুন

Facebook WhatsApp
⬅ Back to Home